অভিজিৎ দাশ
পশ্চিমবঙ্গে তামাকের উৎপাদন নেহাত কম নয়। এর সিংহভাগ উৎপন্ন হয় কোচবিহার জেলায়। শতকরা হিসেবে আশি ভাগ। এই জেলার দিনহাটা মহকুমা জুড়ে তামাক চাষের রমরমা। তামাকের মরশুম এলে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবাই তামাক চাষের বিভিন্ন কাজে লেগে পড়ে। তামাক গাছের নীচের দিকের ছোট পাতা কিংবা পর্ব থেকে গজিয়ে ওঠা শাখা ভেঙে দেওয়ার জন্য অনেকক্ষেত্রে ছোটদের কাজে লাগানো হয়। এতে উপরের পাতাগুলি বড় হয়। পাতা কাটার উপযোগী হলে সেগুলি গাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রোদে শুকানো হয়। একাজে বাড়ির শিশু ও মহিলাই বেশি লিপ্ত থাকে। তাদের কোমল হাতে পাতায় থাকা রাসায়নিক স্থায়ী ক্ষতি করে। দিনের পর দিন নিকোটিন শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ করে ক্যান্সারও ঘটাতে পারে।
পাতা বাজারজাত করার জন্য কিছু পাতা একত্রিত করে বাঁধা হয়। অনেকে ভাল দাম পেতে বাড়িতে রেখে দেন। তামাক বাঁধার কাজ করে আইটেনদাররা। যে যত বেশি দক্ষ আইটেনদার তার তামাক তত বেশি দাম পায়। তামাকের বড় বড় স্তূপ বা গাদির আশপাশে বহুদূর পর্যন্ত গন্ধে টেকা দায়। অভিজ্ঞতা না থাকলে এই গন্ধে কয়েক মিনিট থাকলে যে কেউ মাথা ঘুরিয়ে অজ্ঞান হয়ে যাবে। ঐ গাদি মাঝে মাঝে পাল্টানো, জাগ দেওয়া ইত্যাদি প্রতিটি কাজ যারা দিনের পর দিন করে তাদের ফুসফুসগুলি ক্রমশ অকেজো হয়ে যায়। খৈনি কোম্পানিতে তামাক ঝাড়া, পাতা কুচি কুচি করে কাটা ইত্যাদি কাজ প্রচন্ড স্বাস্থ্যহানিকর।
এসব কাজে মজুরি এত কম যে সংসার চালানোই মুশকিল। রোগ হলে ওষুধ ও পথ্য যোগানো বাড়তি বোঝা। স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার উপায় নেই। বড়রা যেটুকু সহ্য করতে পারে, ছোটদের কথা ভাবুন তো! একবারও কি ভেবে দেখেছি আমাদের ভবিষ্যৎ নাগরিকদের আমরা কোন পথে ঠেলে দিচ্ছি ? দুমুঠো ভাতের জন্য বিপদজনক কাজে পরিবারের অন্যান্যদের সাথে তাদের লাগানো হয়। একাজে কোনও বীমার ব্যবস্থাও নেই। মনে রাখা দরকার এদেশে প্রতি বছর বহু মানুষ কিন্তু টিবি রোগে মারা যায়।
Have an account?
Login with your personal info to keep reading premium contents
You don't have an account?
Enter your personal details and start your reading journey with us
Design & Developed by: WikiIND
Maintained by: Ekhon Dooars Team